যে কারণে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশে বিলম্ব করছে আ’লীগ

কৌশলগত কারণে মহাজোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। আরো খুঁটিনাটি বিষয় পর্যালোচনা করেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানালেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আজ সোমবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ধানমণ্ডিতে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির পর যাচাই- বাছাই শেষে, এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২৩১ জনকে চিঠি দিয়ে প্রার্থীতার বিষয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে মহাজোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার মহাজোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে আওয়ামী লীগ।







বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাবে ভেবে জোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এমনটা আমরা ভাবছি না। তবে প্রতিপক্ষের যে কৌশল, সেটা তো আমাকে দেখতে হবে। আমি কৌশলে মার খেতে চাই না। কৌশলেও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ ছাড়া কিছু আসনে আমরা একাধিক প্রার্থীকেও মনোনয়ন দিয়েছি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আমরা মাঠপর্যায়ে আরেকটি জরিপ করব। কে আসলে জনগণের কাছে বেশি জনপ্রিয়, এটা আমরা বিবেচনায় নেব। আবার কোনো কোনো প্রার্থী ঋণ খেলাপির মধ্যেও থাকতে পারে। সব মিলিয়ে আমরা বোঝাপড়ার মাধ্যমে মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা করব। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব।’

এ সময় কক্সবাজারে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির স্ত্রী এবং হত্যা মামলায় বন্দী টাঙ্গাইলের আমানুর রহমান খান রানার আসনে তার বাবাকে প্রার্থী করা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন কাদেরকে। জবাবে তিনি বলেন, ‘বদিকে নিয়ে কন্ট্রোভার্সি আছে, সে জন্য করিনি। বদির বউয়ের অপরাধ কী? বদি অপরাধী হলে তার ভাগিদার কি তার স্ত্রী? নো। রানার বাবা, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। রানা জেলে, সে যে খুন করেছে, এটা এখনো কোর্টে প্রমাণিত হয়নি। এই অবস্থাও আমরা তাকে মনোনয়ন দিতে পারতাম। কিন্তু কন্ট্রোভার্সি আছে, তাই তাকে দিইনি।’







ওবায়দুল কাদের নিজেদের জনমত জরিপে নিয়ে বলেন, ‘এতসব বিতর্কের মধ্যেও সাতটি জনমতের জরিপে বদি এগিয়ে, এদিকে রানাও সাতটি জনমত জরিপে এগিয়ে। তারপরও তাদের আমরা মনোনয়ন দিইনি। এমন দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছি, যারা নিরপরাধ।’

বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হলে দলে ফেরত নেওয়া হবে কি না-এমন প্রশ্নের উত্তরে কাদের বলেন, ‘বিদ্রোহ মানেই বহিষ্কার। আজীবন বহিষ্কার। আওয়ামী লীগ দিনে দিনে আরও মডার্ন হচ্ছে।’

এদিকে, সকালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব- উল আলম হানিফ অভিযোগ করেন- হুমকি দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি।

সবদলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনো সংশয় নেই বলেও জানান আওয়ামী লীগ নেতারা।