এমন একজন মেধাবী সাদমানের খোঁজেই ছিল বাংলাদেশ!

যারা সাদমানকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে তার ব্যাটিং দেখেছেন- তারা আশায় বুক বেঁধেছিলেন ড্যাশিং সৌম্যর সাথে সাদমানের রসায়নটা ভাল হতে পারে। কারণ তার সম বয়সী সৌম্য, লিটনদের মত স্ট্রোক প্লে’র চেয়ে সাদমান অনেক বেশী ধীর-স্থির। ব্যাটিং টেকনিক অনেক বেশী পরিপাটি ও সাজানো-গোছানো। বলের পিছনে শরীর ও পা এনে খেলার চেষ্টা বেশী। আর টেস্ট তথা দীর্ঘ পরিসরের ফরম্যাটে যা সবচেয়ে বেশী দরকার, সেই ধৈর্য্যটা আছে।







প্রায় পৌনে চার ঘন্টা (২২০ মিনিট) উইকেটে থেকে রানের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি ১৯৯ বল খেলে ৭৬ রান করার পথে বাউন্ডারি মাত্র ছয়টি। ফিফটিও করেছিলেন একই ছন্দ ও লয়ে ব্যাট করে করে ১৫৭ মিনিটে ১৪৭ বলে। পুরো ইনিংসে সাদমান কতটা সতর্ক- সাবধানী ও সংযমী ছিলেন, তা একটা ছোট্ট পরিসংখ্যানেই মিলবে তার প্রমাণ।







৭৬ রানের অর্ধেক ৩৮ রান করেছেন সিঙ্গেলস দিয়ে, ছয় বাউন্ডারিতে ২৪ আর সাত ডাবলস থেকে ১৪। সব মিলে ৭৬। ৫১ টি স্কোরিং শটস। বাকি ১৪৮ বলে রান করেননি। অফস্টাম্পের বাইরে ও আশপাশে কিছু বল ছেড়ে দিয়েছেন। আর ৬০ ভাগ ডেলিভারি ডিফেন্স করেছেন।

সবচেয়ে বড় কথা এক মুহূর্তের জন্যও তাকে আড়ষ্ট মনে হয়নি। জীবনের প্রথম টেস্ট খেলছেন- তা মনেই হয়নি। একদম আত্মবিশ্বাস ও পূর্ণ আস্থা নিয়েই ব্যাট করেছেন। যখন ডিফেন্স করেছেন একদম প্যাড ও ব্যাট একসাথে নিয়ে বলের ঠিক পিছনে এসেছেন। আর অফ ও অন সাইডে ড্রাইভ করার সময় ডান পা বাড়িয়ে যতটা সম্ভব মাটিতে রেখে ড্রাইভ খেলেছেন। তুলে মারার চেষ্টা ছিল খুবই কম।







মোদ্দা কথা, একদম গাণিতিক ও প্রথাগত ব্যাটিং। টেস্টে তামিম ইকবালের সাথে যে এমন কাউকেই দরকার। নিজের অভিষেক ইনিংসের এই টেস্ট টেম্পারমেন্ট যদি আগামীতেও ধরে রাখতে পারেন সাদমান, তবে উদ্বোধনী জুটি নিয়ে বাংলাদেশ দলের চিন্তা দূর হয়ে যাবে বলাই যায়।