নারী আর পুরুষের অর্গাজম্ কি সমান? গবেষণা কী বলছে?

পুরুষ ও মহিলার যৌন আকাঙ্খা কি ভিন্ন প্রকৃতির? এনিয়ে প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে। লজ্জার খাতিরে অনেকে প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু মনে প্রশ্ন রয়েই যায়। নারী যেভাবে শরীরী আদর উপভোগ করে, পুরুষও কি ঠিক তাই? নাকি তাদের চাহিদা অন্য? এনিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল। তাতে যে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে তাতে কৌতূহল থেকে উঠে গিয়েছে পর্দা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি কোনও পুরুষ ও মহিলার সঙ্গম আলাদাভাবে দেখা যায়, তবে অনেক কিছু লক্ষ্য করা যায়। পুরুষরা নগ্নতাতেই মুগ্ধ। সামনে কোনও সুতোহীন নারী শরীর থাকলে তাদের ভিতরে জেগে ওঠে উত্তেজনা। বিশেষত, উন্মুক্ত স্তন পুরুষদের টানে বেশি। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। তারা সম্পূর্ণ যৌনতাটাই উপভোগ করতে চায়। ফোর-প্লে থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত, প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করে মহিলারা। শুধু শারীরিক মিলন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গোটা বিষয়টি কীভাবে হচ্ছে, সেটাও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মানসিক সম্পর্কের সঙ্গেও ওতপ্রতভাবে জড়িত শারীরিক সম্পর্ক। মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণরূপে প্রযোজ্য। পুরুষরা যৌনতার সময় শুধু যৌনতার কথাই মাথায় রাখে। বিছানায় নারী শরীরই তাদের কাছে একমাত্র বিষয়। কিন্তু মহিলাদের মাথায় ঘোরে অনেক কিছু। শারীরিক ঘনিষ্ঠতার আগে মানসিক ঘনিষ্ঠতা তাদের কাছে বেশি জরুরি। সেটা যদি হয়, তবে বিছানায় মিলনে তাদের আপত্তি থাকে না। কিন্তু সেখানে তাদের মন জয় করা সহজ কথা নয়। নারীদের যৌনতৃপ্তি আনতে গেলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয় পুরুষদের। এমনকী, ঠোঁটের ছোঁয়া থেকে আবেগাপ্লুতভাবে চুমু খাওয়া, সবেতেই লুকিয়ে থাকে নারীর স্যাটিসফ্যাকশন। আর পুরুষ সেখানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ পর্যায়ে পৌঁছতে চায়।

অনেকে বলে পর্নোগ্রাফি নাকি শুধু ছেলেদেরই উদ্দীপ্ত করে। কিন্তু একথা সম্পূর্ণ ভূল। পর্নোগ্রাফি দেখে যতটা উত্তেজিত হয় পুরুষ, ততটাই হয় মহিলারাও। পর্নোগ্রাফি দেখে নিজেদের উত্তেজনা প্রশমিত করে দেয় পুরুষরা। এর জন্য স্বমেহনের সাহায্য নেয় তারা। কিন্তু মহিলারা শারীরিক ঘনিষ্ঠতার দিকে নজর দেয় বেশি। এক্ষেত্রে বলা দরকার, শুধু মহিলাদের অর্গাজম্ কিন্তু শুধু শারীরিক ঘনিষ্ঠতার জন্যই আসে না। চোখের সামনে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ও মানসিক চাহিদা থেকেও অর্গাজম্ হয়।